স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার সহজ উপায়

স্মৃতি হল এমন একটি স্থান যেখানে মস্তিষ্ক সব রকম তথ্য জমা রাখে এবং তা সময় সময় মনে করিয়ে দেয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের স্মৃতি হ্রাস পেতে থাকে। ছোট ছোট বিষয় যেমন চাবি রিঙ কোথায় রেখেছেন, মানুষের নাম, ফোন নাম্বার ইত্যাদি ভুলে যাই আমরা। হাজার চেষ্টা করে তা মনে করা যায় না। যদিও এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু কিছু উপায়ে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করা সম্ভব।

 

১। শারীরিক পরিশ্রম করা

শারীরিক পরিশ্রম শুধুমাত্র আপনাকে ফিট রাখতে সাহায্য করবে না, এটি আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। এর জন্য আপনাকে অনেক কায়িক পরিশ্রম করার প্রয়োজন পড়বে না। সাধারণ হাঁটা, মর্নিং ওয়াক, দৌড়ানো, অথবা সাইক্লিং এর মত ব্যায়ামও আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

২। মানসিক পরিশ্রম

Stanford University এক গবেষণায় দেখেছেন যে, ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত মেমরি লস হ্রাস করা সম্ভব শুধু মাত্র মানসিক পরিশ্রম যেমন দাবা খেলা, গোলক ধাঁধার সমাধান, বই বা খবরের কাগজ পড়ে অথবা নতুন কোন ভাষা শেখার মাধ্যমে।

৩। মনযোগ দিন আট সেকেন্ড

বর্তমান এই সময়ে আমরা সব কাজ অনেক দ্রুত করার চেষ্টা করি। দ্রুত পড়ি, দ্রুত দেখি, এবং দ্রুত ভুলে যাই। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে কোন কিছু মনে রাখতে চাইলে কমপক্ষে আট সেকেন্ড সেটিতে মনোযোগ দিন। এটি দীর্ঘদিন আপনার মস্তিষ্কে জমা থাকবে। আট সেকেন্ড স্বল্প সময়ের স্মৃতিকে দীর্ঘমেয়াদী করতে সাহায্য করে।

৪। চুইংগাম

চুইংগাম সরাসরি স্মৃতি বৃদ্ধি না করলেও এটি যেকোন কাজে মনোযোগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। শুধুমাত্র চুইংগাম চিবানো ১০% মনোযোগ বৃদ্ধি করে আর দশজন সাধারণ মানুষের থেকে। ২০০২ এবং ২০০৪ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কোন কিছু শোনার সময় চুইংগাম চিবায় তাদের দীর্ঘসময় মনে থাকে।

৫। ক্যাফিন

ক্যাফিনের উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে বির্তক থাকলেও, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিকে এটি প্রভাবিত করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ক্যাফিন স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি বৃদ্ধি করে এবং মহিলাদের মেমরি লস হওয়া হ্রাস করে থাকে।

৬। গভীরভাবে পর্যাবেক্ষণ করা

যেটি মনে রাখতে চান, তা হতে পারে চাবির রিঙ, অথবা কারোর ফোন নম্বার কিংবা কারোর নাম। সেটি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনুন, দেখুন। চাবির রিঙের রঙটা খেয়াল করুন, নামটা ভাল করে শুনুন। মনে মনে কয়েকবার নামটা নিজেকে বলুন। দেখবেন এটি দীর্ঘসময় আপনার স্মৃতিতে থাকছে।

৭। পর্যাপ্ত ঘুম

সারাদিনের পরিশ্রমের পর আমাদের শরীরে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। ঘুমের একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করে নিন। এবং সেই নিয়মে ঘুমাতে যান ও ঘুমতে উঠুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমান।