যে ভাবে করবেন পার্টি মেক-আপ—Click Here

বছর অন্তিম দোড়গোড়ায় এসে দাঁড়ানো মানেই চারিদিকে শীতের আমেজ, গুচ্ছ গুচ্ছ ছুটি এবং একগাদা পার্টির নিমন্ত্রণ। পার্টিতে সেন্টার অফ অ্যাট্রাকশন হতে হবে তো? রইল সহজ মেক-আপ এবং হেয়ার স্টাইল টিপস।
শীতকালের আগমন মানেই শরীর একদম তরতাজা, ফুরফুরে। কী মজার সময় বলুন তো! চারদিকে শুধুই যেন ছুটির পরিবেশ! হিমেল হাওয়া গায়ে মেখে পিকনিক, বিয়েবাড়ি, পার্টি চলে দেদাড়! এটাই তো আইডিয়াল সময়— বড়দিন, থার্টি ফার্স্ট নাইট, নিউ ইয়ারস ইভ— পার্টির কি শেষ আছে? সুন্দর করে সেজে পার্টির মধ্যমণি হতে হবে তো? আর শুধু পার্টি কেন— বিয়েবাড়িতেও তো সবাইকে ছাপিয়ে যেতে হবে। তাই আপনার পার্টি স্পিরিটকে আরও একটু উস্কে দিতে রইল গ্ল্যামারাস মেক-আপ লুকের আইডিয়া।
শীতকাল মানে সাজ-গোজের পৌষমাস। ভূতের রাজার বর। যত খুশি সাজুন, যেমন খুশি সাজুন। হেভি ফাউন্ডেশন বলে ঘেটে যাবার ভয় নেই। যে গাঢ় লিপস্টিকটা পরতে কিন্তু কিন্তু করছিলেন, সেটা পরারও সময় উপস্থিত। আমাদের সারা বছর মূলত যেরকম আবওহাওয়ায় কাটে, তাতে গ্লিটার, শিমার এসব ব্যবহারেরও বিশেষ সুযোগ হয়ে ওঠে না। কিন্তু শীতকালে কিন্তু এসবের কোনও চাপ নেই। আরে বাবা, পার্টি সিজ়নে একটু গ্ল্যামারাস লুক না হলে কি চলে!
পারফেক্ট বেস:
শুরু করুন পরিষ্কার মুখ দিয়ে। ক্লেনজ়িং মিল্ক দিয়ে মুখ ভালভাবে পরিষ্কার করে নিন। এবার গোলাপ জলে কটন প্যাড ডুবিয়ে আর একবার মুখে, গলায় এবং ঘাড়ে বুলিয়ে নিন। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে সামান্য ময়েশ্চারাইজ়ার লাগান। ময়েশ্চারাইজ়ার লাগিয়ে মিনিট দু’-তিনেক অপেক্ষা করুন। এবার পালা প্রাইমারের। এখন বাজারে অনেক ইলিউমিনেটিং প্রাইমার পাওয়া যায়। এতে মেক-আপ দীর্ঘস্থায়ী হবার সঙ্গে সঙ্গে মুখে ন্যাচারাল গ্লোও আসবে। তবে, তা না পেলে চিন্তা করবেন না। গ্লো আনার অন্য উপায়ও আছে। এরপর স্কিন টোনের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন লাগান। ইলিউমিনেটিং ফাউন্ডেশনও ব্যবহার করতে পারেন। ভিজে স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে ভালভাবে মুখে, কানে, গলায়, ঘাড়ে ব্লেন্ড করে নিন। ত্বক খুব শুষ্ক লাগলে কয়েক ফোঁটা স্কিনকেয়ার অয়েল মিশিয়ে নিন ফাউন্ডেশনে। কোনও দাগ বা অ্যাকনে থাকলে সামান্য কনসিলার স্পটে লাগিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এবার পালা ইনার গ্লো আনার। এক শেড বা দু’শেড হাল্কা কনসিলার নিয়ে চোখের নিচে, নাকের ওপর, কপালের মাঝখানে এবং থুতনিতে— অর্থাৎ, মুখে মাঝখানের অংশগুলোতে লাগান এবং ব্লেন্ড করুন। আসলে মুখের ওপর এই অংশগুলো বাকি অংশের তুলনায় উঁচু হবার ফলে, আলো এই অংশগুলোতেই রিফ্লেক্ট করে। ফলে এখানকার ত্বক সামান্য উজ্জ্বল হলে দেখতে বেশ ভাল লাগে। তবে খুব বেশি হাল্কা শেড ব্যবহার করবেন না, তাতে পুরো ব্যাপারটাই মেকি লাগবে। এবার লুজ় পাউডার বা কমপ্যাক্ট নিয়ে হাল্কাভাবে মুখে বুলিয়ে নিন। ম্যাট লুক না চাইলে, পুরো মুখে পাউডার ব্যবহার না করে শুধু যেখানে কনসিলার লাগিয়েছেন, সেখানে ব্যবহার করলেই হবে। এরপর এক শেড বা দু’শেড গাঢ় কনসিলার ব্যবহার করে চিকবোনের ঠিক নিচের অংশ, চোয়াল এবং কপালের বাইরের দিকে লাগিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। যদি নাক শার্প দেখাতে চান, তাহলে এই সময়ই নাকের দু’পাশে সামান্য গাঢ় শেডের কনসিলার লাগিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।

গর্জাস আইজ়:

আই মেক-আপ কিন্তু পার্টি লুকের মেন অ্যাট্রাকশন। সবাইকে যে ‘কাজল নয়না হরিণী’ হতে হবে এমন তো নয়। কিন্তু মেক-আপ ঠিকঠাক হলে আপনার চোখ যেমনই হোক, চোখের পলক ফেলতে অনেকেই ভুলে যেতে পারেন। প্রথমেই আই-ব্রো শেপ করুন। খুব ডার্ক শেডের পেন্সিল ব্যবহার করবেন না। আমাদের স্কিন টোন এবং হেয়ার কালার অনুযায়ী গ্রে এবং ব্রাউন শেড ভাল যায়। ডোন্ট গো ওভারবোর্ড। ন্যাচারাল ব্রো-এর শেপটাই একটু নিঁখুত করুন— মাঝের ফাঁকা বা তুলনামূলকভাবে কম ঘন অংশগুলো ফিল ইন করে নিন। সামান্য কনসিলার নিয়ে চোখের পাতায় ভালভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এতে আইশ্যাডো সুন্দর করে ফুটবে। প্রথমে কোনও ম্যাট শেডের ব্রাউন শ্যাডো নিয়ে চোখের ক্রিজ়ে লাগান। ব্লেন্ড করতে ভুলবেন না। পার্টিতে শিমার বা ব্রোঞ্জ কালারের শ্যাডো দেখতে বেশ ভাল লাগে। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে শ্যাডো লাগাবেন না। বরং কনট্রাস্ট আনুন। রঙ বাছতে সমস্যা হলে নিউট্রাল শেড বেছে নিন। গোল্ডেন, সিলভার, কপার, রোজ়, অলিভ, পার্পল— যে কোনও রঙের শিমারই ব্যবহার করতে পারেন। চোখের পাতার মাঝের অংশে লাগিয়ে নিন। চোখের বাইরের কোণে একটু গাঢ় শেডের শ্যাডো লাগান। এবার আই ব্রো-এর ঠিক নিচে কোনও হাল্কা শিমার শেড লাগান। প্রতিটি কালার এমনভাবে ব্লেন্ড করুন যাতে গ্রেডিয়েশন বোঝা যায়। বাইরের কোণে যে গাঢ় শেড ব্যবহার করেছেন, সেটাই নিচের পাতার বাইরের কোণেও ব্যবহার করুন। ওপরের এবং নিচের পাতার ভেতরের কোণে কোনও হাল্কা রঙের শিমার শেড লাগান। চোখ উজ্জ্বল লাগবে। এবার চোখের শেপ অনুযায়ী সরু কিংবা মোটা করে লাইনার টানুন। উইঙ্গড আইলাইনার এক্ষেত্রে বেস্ট। নিচের পাতায় ঘন আই পেন্সিলের রেখা দেখতে সুন্দর লাগবে। তবে কালোর বদলে ব্রাউন, অলিভ, টিল, ব্লু ট্রাই করতে পারেন। পার্টিতে একটু জমকালো সাজতে চাইলে ফল্স ল্যাশও ব্যবহার করতে পারেন। এরপর পাতায় কয়েক পরত মাস্কারা লাগালেই চোখের মেক-আপ শেষ। বোল্ড অ্যান্ড ব্রাইট!

লুশিয়াস লিপস:

শীতের আবওহাওয়াতে গাঢ় শেড বেশ ভাল লাগে। মেরুন, মভ, চকোলেট, লাল, রানি ইত্যাদি শেড ব্যবহার করতে পারেন। তবে গাঢ় লিপকালার পছন্দ না হলে ফুশিয়া পিঙ্ক, ব্রাউন, বেবি পিঙ্ক, কোরাল ইত্যাদিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, চোখ এবং ঠোঁট দু’টোই যেন খুব বেশি লাউড না লাগে। চোখে যদি কোনও ব্রাইট কালার ব্যবহার করেন, তাহলে ঠোঁটে বেশি ব্রাইট রঙ না ব্যবহার করাই ভাল। এখন শিমার লিপস্টিকও পাওয়া যায়। পছন্দ হলে তাও ব্যবহার করতে পারেন।
ফিনিশিং টাচ: মেক-আপ প্রায় রেডি। শুধু গালে সামান্য ব্লাশার লাগিয়ে নিন। পিচ, কোরাল, বেবি পিঙ্ক শেড ভাল লাগবে। তবে আসল কাজ কিন্তু এখনও বাকি। সামান্য হাইলাইটার ব্রাশে নিয়ে আই-ব্রো-এর আর্চ, চিক বোন, নাকের ডগা, থুতনি এবং কিউপিড্স বো-তে (অর্থাৎ ওপরের ঠোঁটের মাঝের অংশে) লাগান। হাতের কাছে যদি হাইলাইটার না থাকে, তাহলে কোনও গোল্ডেন বা সিলভার আইশ্যাডোও লাগাতে পারেন। একই কাজ হবে। ভালভাবে ব্লেন্ড করে নেবেন। দেখবেন স্কিন কেমন গ্লো করে!
স্টাইলিশ হেয়ার:
খোলা চুল ব্লো ড্রাই করে তো রাখতেই পারেন। কিন্তু ডান্স ফ্লোরে খোলা চুল সামলাতে গেলে যদি অসুবিধা হয়, তাহলে চুল বেধে রাখাই শ্রেয়। মেসি বান, সাইড রোল, হাফ আপডু কিংবা ফ্রেঞ্চ রোল ট্রাই করতে পারেন। মেসি বানের জন্য চুল ভাল করে ব্রাশ করে নিন। এবার একটা পনিটেল বেধে নিন। এবার চুলের নিচ থেকে উল্টোদিকে ব্রাশ করুন। খানিকটা করে চুল নিয়ে রোল করে কাটা বা ববি পিনের সাহায্যে সেট করে নিন। সাইড রোলের ক্ষেত্রে মেসি বানের মতোই পনিটেল করুন, তবে মাথার কোনও এক পাশে। এবার পুরো চুল রোল করে ববি পিনের সাহায্যে আটকে নিন। হাফ আপডু করতে চাইলে কানের ওপরের অংশ অবধি চুল নিয়ে ব্রাশ করে নিন। এবার ওই অংশের চুল ওপর থেকে নিচের দিকে ব্রাশ করে পাফ করে নিন। এবার দু’পাশে কানের ওপরের অংশ অবধি চুল পিছনে নিয়ে ববি পিন লাগিয়ে নিন। ফ্রেঞ্চ রোলের ক্ষেত্রে পুরো চুল পনিটেল বাধার মতো করে ধরে বাইরে থেকে ভেতরের দিকে লম্বালম্বিভাবে রোল করতে থাকুন। পুরো চুল রোল করা হয়ে গেলে ববি পিন এবং কাটার সাহায্যে সেট করে নিন। আজকাল বিভিন্ন হেয়ার অ্যাকসেসরিজ়ও পাওয়া যায়। টায়রা, সুন্দর হেয়ার পিন, বোহো ব্যান্ড, স্টোন ক্লিপস ইত্যাদিতে নিজের আলাদা ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করুন।
ব্যস, মেক-আপ আর হেয়ারস্টাইল ডান। পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে জুয়েলারি, ক্লাচ ব্যাগ এবং পায়ে একজোড়া স্টিলেটো গলিয়ে নিলেই উইন্টার পার্টির জন্য আপনি রেডি!