মুখের মেক-আপ কেমন হবে?–Click Here

আমার বয়স ২৪ বছর। সামনেই আমার কয়েকটা বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণ আছে। আমি সাজতে ভালবাসি। কিন্তু আমার ত্বক খুব শুষ্ক। শীতকালে আমার স্কিন আরও ফেটে যায়। ফলে মেক-আপ করলে মুখে ভাল করে মেশে না। ত্বকের অনেক জায়গায় মেকআপের প্যাচ হয়ে থাকে। মুখের যেসব জায়গা বেশি শুষ্ক সেখানে মেক-আপ খুব আনইভেন লাগে। অনেকসময় জ্বালা করে। আমি চাই আমার মুখে একটা ন্যাচারাল গ্লো আসুক, এবং মেক-আপ যেন বাইরে থেকে বোঝা না যায়। আমার কীভাবে মেক-আপ করা উচিত? আপনার সাজেশন চাই
শীতকালে যেকোনও ধরনের ত্বকই ড্রাই হয়ে যায়। যাঁদের শুষ্ক ত্বক তাঁরা আরও বেশি সমস্যায় পড়েন। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই। দেয়ার ইজ় অলওয়েজ় আ সলিউশন। মেক-আপ ক্যান ডু ওয়ানডার। আপনি মেক-আপ করার সময় আমার দেওয়া স্টেপগুলি পরপর ফলো করুন। প্রথমেই মুখ ভাল ধুয়ে নিন। ড্রাই স্কিনের উপযুক্ত ফেশ ওয়াশ ব্যাবহার করুন। এবার মুখে এক্সট্রা হাইড্রেটিং ময়শ্চারাইজ়ার লাগান। আপনার মুখের যে সমস্ত অংশ বেশি শুকনো সেখানে বেশি সঠিক পরিমাণে ময়শ্চারাইজ়ার লাগাতে হবে। তবে অতিরিক্ত ময়শ্চারাইজ়ার লাগাবেন না। এতে মেক আপ ঠিকমতো বসবে না।
প্রাইমার
মেক-আপ শুরুর প্রথম ধাপে মুখে প্রাইমার লাগান। প্রাইমার মুখে একটা স্মুদ বেস আনে, ফলে মেক-আপে ইভেন এফেক্ট পাওয়া যায়। এবার চোখের চারপাশে সামান্য আই প্রাইমার নিয়ে হালকা ভাবে লাগান। আই প্রাইমার তৈলাক্ত ভাব না এনেই আই মেক-আপকে সুন্দর ভাবে ব্লেন্ড করে। আমি দেখেছি যাঁদের ড্রাই স্কিন হয় তাঁরা আই মেক-আপ করার পর অনেকসময় চোখে লালচে ভাব দেখা দেয়, অনেকের ইরিটেশন হয়। আই প্রাইমার ব্যাবহার করলে এই সমস্যা হবে না।
ফাউন্ডেশন
এবার মুখে ফাউন্ডেশন লাগান। দেখে নিন ফাউন্ডেশন যেন ময়শ্চারাইজ়ার যুক্ত হয়। ড্রাই স্কিনের জন্য লিক্যুইড ফাউন্ডেশনই ভাল। পাউডারড ফাইন্ডেশন ড্রাই স্কিনে প্যাচ তৈরি করে। চোখের নীচের অংশ বাদ দিয়ে সারা মুখে ভাল করে ফাউন্ডেশন লাগান। ফাউন্ডেশন লাগানোর জন্য আঙুলের বদলে নরম ফাউন্ডেশন ব্রাশ ব্যাবহার করুন। এতে স্ট্রোকগুলো অনেক স্মুদ হবে।
কনসিলার
এবার আন্ডার আই এরিয়াতে ছোট স্মুদ ব্রাশ দিয়ে কনসিলার লাগান। যদি মনে করেন মুখের কোনও অংশে আরও একটু কভারেজের দরকার আছে সেখানেও সামান্য কনসিলার লাগাতে পারেন। এবার ময়শ্চারাইজ়ার যুক্ত সেটিং স্প্রে দিয়ে মুখে একবার স্প্রে করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এতে মেক-আপ ভালভাবে বসবে। বেস মেক-আপ কমপ্লিট।
আই মেক-আপ
এবার শুরু করুন আই মেক-আপ। আপনি আগেই আই প্রাইমার লাগিয়েছেন, তাই ত্বক শুষ্ক থাকার কথা নয়। কিন্তু যদি মনে করেন আইলিড ড্রাই লাগছে তাহলে পেনসিল লাইনারের বদলে লিক্যুইড লাইনার লাগান। একইভাবে পাউডারড আইস্যাডোর বদলে ক্রিম বেসড আই শ্যাডো ব্যবহার করুন। যদিও ক্রিম বেসড আইশ্যাডো পাউডারড আই শ্যাডোর মতো ভাল ব্লেন্ড হয়না। যাঁদের ড্রাই স্কিন তাঁদের চিকবোন সাধারণত বেশি শুষ্ক থাকে। তাই চিক বোনে সামান্য লিক্যুইড ব্লাশার লাগিয়ে হালকা হাতে ব্লেন্ড করুন।

ঠোঁটের মেক-আপ

শুষ্ক ত্বক হলে ঠোঁট ফাঁটার সমস্যাও বেশি হয়। ফাঁটা ঠোঁটে কোনও লিপস্টিকই ভাল লাগে না। তাই লিপ মেক-আপের আগে ভাল কোনও চ্যাপস্টিক লাগিয়ে নিন। এবার ঠোঁটে লিপস্টিক লাগান। তবে ম্যাট, লং লাস্টিং লিপস্টিক না লাগানোই ভাল। কারণ এগুলো ঠোঁটকে আরও বেশি শুষ্ক করে দেয়।