মাশরাফিকে বারবার খোটা দিতেন কোচ হাথুরুসিংহে, নেপথ্যে যে কারণ!

তাকে বলা হয় বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমনের প্রাণ ভোমরা। মাঠে খেলেন নিজের শতভাগ উজাড় করে, জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসেন ক্রিকেট। বার বার বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়েন, থাকতে হয় মাঠের বাইরে। আবার ফর্ম নিয়ে ফিরেও আসেন সগৌরবে। তাইতো তার আচমকা টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষনায় চমকে গেছে দেশের ক্রিকেট ভক্তরা।

‘মাশরাফি নিজ ইচ্ছাতে টি-টোয়েন্টি ছাড়েননি’ তাইতো এমন ধারণা করছেন মাশরাফি প্রেমীরা। আর এই সন্দেহ আরো জোরালো হল যখন একদিকে বোর্ড সভাপতি বলছেন, মাশরাফিকে কেউ কোনো চাপ দেয়নি। তবে এবার জানা গেলো টাইগার নেতা মাশরাফিকে বারবার খোটা দিতেন কোচ হাথুরুসিংহে।

আবার নিজেই বলেছেন, দলকে তারুন্যনির্ভর করার পরিকল্পনা থেকে মাশরাফির অবসরের কথা বলা হয়েছে। আর এখন জানা যাচ্ছে, শ্রীলঙ্কা সফরে কোচ মাশরাফিকে সরাস তার বোলিং ভালো হচ্ছে না, বলে খোটা দিয়েছেন। এ নিয়ে জবাব চেয়েছেন।

 

মাশরাফির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক আজ লিখেছেন, শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগেই চাপে রাখা হয়েছিল বাংলাদেশ অধিনায়ককে। শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর পরই টিম ম্যানেজমেন্টের মিটিংয়ে হাজির হতে হয় মাশরাফিকে। যেখানে তাকে বলা হয়েছিল, তার বোলিং ঠিকঠাক হচ্ছে না। বোলিং নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

মাশরাফির উপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ দেয়া হয় রুবেল হোসেনকে। সূত্র আরও জানায়, সিরিজের মাঝপথে বোর্ডের পক্ষ থেকে তার কাছে বার্তা পাঠানো হয়। শেষতক বিসিবির শীর্ষ কর্তারা মিটিংয়ে বসেন মাশরাফিকে নিয়ে। সেখানে তাকে জানানো হয়, টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক চায় বিসিবি। তবে সেই মিটিংয়ে অনেক ডাকাডাকির পরও উপস্থিত ছিলেন না কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে।

অভিভাবক বোর্ডের মনোভাব জানার পর আর লড়াইটা চালিয়ে যেতে চাননি মাশরাফি। তাই টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে অবসরের ঘোষণা দেন ৩৩ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। আর তাতেই ৫৪ ম্যাচে ৩৭৭ রান ও ৪২ উইকেট নিয়েই থেমে যায় মাশরাফির টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার।