তেলের কারনে ঝরে চুল! —>>>

আবহমান বাংলায় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত—‘তেলে চুল তাজা’। তাই চুল ঝরা, খুশকিসহ চুলের সব ধরনের সমস্যার মহৌষধ হিসেবে মানুষ অবলীলায় তেল ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন উল্টো কথা। তেল ব্যবহারে চুল ঝরা বাড়ে, জন্ম নেয় বিরক্তিকর খুশকি।
দিল্লির শ্রী বালাজি অ্যাকশন মেডিকেল কলেজ ইনস্টিটিউটের ত্বক বিশেষজ্ঞ বিজয় সিংগালের পরামর্শের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল ব্যবহারে মাথার ত্বক মসৃণ ও চুলের খুশকি কমে বলে উপমহাদেশের মানুষের মধ্যে ঐতিহ্যগত ধারণা রয়েছে। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞ
বিজয় সিংগাল এ বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘চুল আর্দ্র রাখার উপায় হিসেবে প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসারে চুলে তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু সত্য হলো, চুলের তেল আমাদের মাথার ত্বকে একটি স্তর তৈরি করে। এই স্তর স্বাভাবিকভাবে ত্বক আর্দ্র হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এটা মাথার ত্বকে একটা পরত ও খুশকির জন্ম দেয়। তাই চুলে তেল ব্যবহার না করার বিষয়ে আমি পরামর্শ দিই।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, খুশকি-আক্রান্ত ত্বকে তেল ব্যবহার চুল ঝরা আরও বাড়ায়। আর চুলে যদি দীর্ঘসময় ধরে তেল থাকে, তবে চুল উজ্জ্বলতা হারায় এবং তা নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। তাই খুশকি ও চুল ঝরার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তেল পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
খুশকি ও চুল ঝরা প্রতিকারে করণীয় বিষয়ে ত্বক বিশেষজ্ঞ বিজয় সিংগালের পরামর্শ চুলে লেবুর রস, অ্যালোভেরা ও টকদই ব্যবহার করা-
লেবুর রস
গোসলে যাওয়ার আগে মাথায় লেবুর রস মাখুন, চুলের গোড়ায় ভালো করে ঘষে তা অন্তত ১৫-২০ মিনিট রাখুন। গোসলের সময় ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন।
অ্যালোভেরা
গোসলে যাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে চুলে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর রস ব্যবহার করুন এবং ২০ মিনিট রাখার পর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন।

টক দই
চুলে টক দই ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলের গোড়া পর্যন্ত ভালো করে মেখে অন্তত এক ঘণ্টা রাখার পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে অন্তত দুইবার এটা করা যেতে পারে।