গ্রীষ্মকালে যে ভাবে করবেন চুল এর পরিচর্যা–Click Here

শীত চলে যাওয়ার সময়টায় প্রকৃতিতে রুক্ষতা রয়ে যায়। সঙ্গে বাতাসে ধুলার ওড়াউড়ি তো আছেই। চুলের ওপর দিয়ে ঋতুবদলের এ সময়টাতে বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। শুষ্কতা তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে রয়েছে খুশকি, ছত্রাকের আর চুল পড়ার সমস্যা। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়া। কেননা অত সাধের কেশগুচ্ছ বলে যে কথা।
যত সমস্যা
সবার চুলের ধরন একই রকমের নয়। কারও হয়তো তৈলাক্ত, আবার কারও শুষ্ক। তাই দেখা দিতে পারে ভিন্ন সমস্যা। রেড বিউটি পারলার অ্যান্ড স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, ‘যাঁদের চুল এবং মাথার ত্বক শুষ্ক, এ সময়টায় তাঁদের সমস্যাও বেড়ে যায় বহুগুণ। খুশকি, চুলের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।’ আর তৈলাক্ত চুলের ক্ষেত্রে? আফরোজা পারভীন জানান, এ ধরনের চুলেও শুষ্কতা এবং ফাঙাসের সমস্যা দেখা দেয়।
শ্যাম্পু করার ক্ষেত্রে
যদিও ঠান্ডায় চুল ধোয়াটা একটু ঝামেলারই বটে, কিন্তু চুলের গোড়া পরিষ্কার রাখার জন্য নিয়মিত শ্যাম্পু করাটা জরুরি। আর যাঁদের মাথার ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের তো এ থেকে নিস্তার নেই। বাইরে বের হলে শ্যাম্পু করাটা বাধ্যতামূলক। নয়তো ধুলাবালি জমে চুলের গোড়ায় আটকে থাকে। শুষ্ক চুলে এক দিন বাদে আর তৈলাক্ত চুলে অন্তত সপ্তাহে ৫ দিন শ্যাম্পু করা উচিত।
শ্যাম্পু বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও চাই সতর্কতা। তৈলাক্ত চুলের জন্য কন্ডিশনারের মাত্রা কম এবং তেলবিহীন এমন শ্যাম্পু বেছে নেওয়া প্রয়োজন। আর শুষ্ক ত্বকে কন্ডিশনার এবং তেলের পরিমাণটা হবে বেশি।
চুলের পরিচর্যায় তেল
চুল ঠিক রাখতে তেলের বিকল্প নেই। তবে তেল কেনার সময় বুঝেশুনে বাছাই করে নিন। চুলের শুষ্কতা দূর করতে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন তেল মালিশ করুন।
চুল শুকাবেন কী করে
হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল না শুকিয়ে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন। এতে চুল পড়ার প্রবণতা কমে যাবে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া
* চুলে রং কিংবা রিবন্ডিং করা থাকলে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন তেল ম্যাসাজ করুন। অন্তত ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন, এতে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়।
* শ্যাম্পু করার পর তোয়ালে দিয়ে আলতো করে পানি মুছে নিতে হবে।
* অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া যাবে না।
* প্রয়োজনে বাইরে বেরোনোর আগে মাথায় স্কার্ফ দিয়ে নিতে পারেন। এতে ধুলাবালির হাত থেকে রেহাই মিলবে চুলের।
* দুই মাস অন্তর শ্যাম্পুর ধরন কিংবা ব্র্যান্ড বদলানো ভালো।
* আর চুল দীর্ঘ সময় ছেড়ে না রেখে বেণি করে রাখতে পারেন। এতে জটমুক্ত থাকবে আপনার কেশগুচ্ছ।
বিভিন্ন প্যাক
ঘরে বসেই বিভিন্ন প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
* চুলের রুক্ষ ভাব কমাতে পুরো চুলে মধু দিতে পারেন। আধা ঘণ্টা গরম তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে ধুয়ে ফেলুন ভালোমতো।
* খুশকির সমস্যা রোধে নারকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে মালিশ করুন।
* চুলে টক দই এবং মেহেদি দিতে পারেন উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য। এ ছাড়া চায়ের লিকারও ব্যবহার করতে পারেন।
কেশগুচ্ছ নিয়ে তবে আর দুশ্চিন্তা কেন!