কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে

কর্মক্ষেত্রে সফল হতে সবাই-ই চান। আর সেজন্যে জীবনের প্রতিটি ধাপে হিসেব করে পা ফেলেন একজন ক্যারিয়ার সচেতন মানুষ, কাজ করে চলেন ভবিষ্যতের জন্যে। কিন্তু যতটা চেষ্টাই করা হোক না কেন, কর্মজীবনে কিছু কিছু কাজে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন অনেকেই। না চাইতেও করা এই ভুলগুলো কর্মক্ষেত্রে প্রতি পদে পদে সামনে চলে আসে আমাদে,। তৈরি করে বাঁধা। আর তাই বিচ্ছিরি এই ভুল কাজগুলো থেকে দূরে থাকতে কোন কর্মক্ষেত্রে যে কোন কাজ শুরু করার আগেই নিজেকে করে নিন এই কটি প্রশ্ন আর উত্তরের ওপর ভিত্তি করে তবেই হাত দিন কাজে। আর হ্যাঁ, পরামর্শগুলো কিন্তু ব্যক্তি জীবনেও কাজে আসবে বেশ।

 

১. কেন কাজটি করছি?

কোন কাজ শুরু করার আগেই নিজেকে এই প্রশ্নটি করুন। এতে করে কাজটিতে নিজের গুরুত্ব এবং আপনার জীবনে কাজটির গুরুত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার একটা ধারণা চলে আসবে ( বিজনেস ইনসাইডার ) আপনার মনে। নিজের লক্ষ্য সম্পর্কেও যথেষ্ট পরিস্কার হয়ে যাবেন আপনি।

২. আমার লক্ষ্য কী?

কেন কোন কাজ করছেন আপনি সেটা নিজেকে পরিস্কারভাবে জানাতে পারলে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কেও বেশ ভালো একটা ধারণা চলে আসবে আপনার মনে। তবে হতে পারে আপনার সমগ্র লক্ষ্যের একটা মাত্র অংশ জুড়ে রয়েছে এই কাজটির ফলাফল। আর কাজ শুরুর আগে নিজের সেই পুরো লক্ষ্য সম্পর্কেও জানতে চান নিজের কাছে। তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন ঠিক কতটা দরকারি এই কাজটি আপনার পুরোটা লক্ষ্যের জন্যে।

৩. কখন ও কোথা থেকে শুরু করব?

আপনি একটা কাজ করবেন আর সেটা সম্পর্কে পুরোটা ধারণা রাখবেন না সেটা একদমই কাজের কথা নয়। আপনি যদি না-ই জানেন যে আপনার শক্তির আর দূর্বলতার জায়গাগুলো কোনটা আর সেই অনুসারে কোথা থেকে শুরু করতে হবে সেই সিদ্ধান্ত না নিতে পারেন, তাহলে কাজটিতে আপনি খুব সম্ভবত বিফল হবেন। তাই কোথা থেকে শুরু করতে হবে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন। ঠিকঠাক জবাব পেলেই কাজে নামুন। আর সময়ের ব্যাপারে নিজেকে প্রশ্ন করে নিলেও সুযোগের অপেক্ষায় বসে না থেকে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করুন ( প্রোসপারাস হার্ট )।

৪. আমার বন্ধু ও শত্রু কারা?

কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই নিজের বন্ধু ও শত্রুদেরকে চিনে রাখুন ( বিজনেস ইনসাইডার )। শত্রুদের সম্ভাব্য দূর্বলতা ও শক্তির জায়গাগুলোকে জানুন। তাদেরকে ভালোভাবে বুঝতে শিখুন। তবে শত্রুদের চাইতেও যে জিনিসটি আপনার বেশি জানা জরুরী সেটা হচ্ছে, কারা আপনার বন্ধু। কোন কাজই একা করা সম্ভব নয়। সহায্যের জন্যে অনেককেই দরকার পড়বে আপনার কাজের সময়। আর তাই নিজের বন্ধুদেরকে চিনুন।

৫. কাজটা করতে কী কী দরকার?

প্রত্যেকটি কাজেরই একটা জ্বালানি দরকার পড়ে। একেবারে খালি হাতে কোন যুদ্ধে জয়ী হওয়াটা প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। আর তাই নিজের কাজটাকে পরিমাপ করুন। এটাকে শেষ অব্দি সফল করতে হলে ঠিক কী কী দরকার আপনার এবং সেটার পরিমাণ কতটুকু তা হিসেব করুন।

৬. লাভের হিসেব কী করে করব?

প্রত্যেকটি কাজেরই লাভ না হয় লোকসান- কিছু একটা থাকে। বলা হয়, হিসেব করলে তবেই সেই ব্যাপারটা ভালোভাবে বুঝতে পারা যায় এবং আরো উন্নতি করা যায়। তাই কাজ শুরুর আগে ভেবে নিন কি করে এই হিসেবটা করবেন আপনি ( ডেইলি রিড লিস্ট )। হতে পারে সেটা কতটা শ্রম দিচ্ছেন এবং তারপর কতটা ফেরত পারছেন সেটার তুলনামূলক হিসেবের মাধ্যমে।

কাজেই মানুষ বেঁচে থাকে। কাজই মানুষের জীবনকে সাঁজিয়ে তোলে। করে তোলে অন্যের চাইতে আলাদা। আর তাই সেই কাজকে আরো একটু সুন্দর ও সত্যিকারভাবে সফল করে তুলতে এই কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর সত্যিই বেশ সাহায্য করবে আপনাকে।